বিদ্যার কায়দা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়েছে, হচ্ছে। সক্রেটিস এবং প্লেটোর সময়ে পেরিপেটেটিক দার্শনিকরা হেঁটে হেঁটে দর্শনের আলোচনা করতেন শিষ্যদের সঙ্গে। মহাভারতের একলব্য দ্রোণকে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি সমর্পণ করেছিলেন যুদ্ধশাস্ত্র শেখার গুরুদক্ষিণা হিসেবে।
সময়ের পেন্ডুলাম এগিয়ে চলল, গুরু গেল পাল্টে। দেয়াল হল চারটে। দেখতে দেখতেই ঔপনিবেশিক শিক্ষাকে সাদরে গ্রহণ করলাম আমরা। আবার সেই ঔপনিবেশিক শিক্ষাকেই ছুঁড়ে ফেলে, চার দেয়ালের শিক্ষাকে ধীরে ধীরে বর্জন করছে জ্ঞানপিপাসুরা। তাই আজ খোলা প্রাঙ্গণে এক বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা পাল্লা দিচ্ছে অন্যান্য বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। উদ্দেশ্য- নতুনত্বের খোঁজে সবরকমের ব্যারিকেড ভেঙে জ্ঞান আহরণকারীদের প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ করানো। স্কুল-কলেজের ইভেন্ট তেমনই একটি প্রয়াস। যেখানে যৎসামান্য সিলেবাসের বাইরে এসে নিজের যোগ্যতার অগ্নিপরীক্ষার মাধ্যমে সবাই ঝুলি ভরে নিয়ে যায় অনেক অভিজ্ঞতা, কিছু ব্যর্থতা, কিংবা জয়ের গল্প।
তবে ইভেন্টে অংশগ্রহণ করা বাদেও সরাসরি একটি ইভেন্ট পরিচালনা করা কারিগরি, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার একটি বড় অংশ। আমি যখন তৃতীয়-কি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র, তখন দেখতাম স্কুলের বড় ভাইদের কালো টি-শার্ট, গলায় আইডি কার্ড এবং হাতে ওয়াকি-টকি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং চিন্তিত থেকে সম্ভবত সাত-আটটি কাজ একসাথে সামলাচ্ছেন। সেই থেকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রতি আমার প্রথম আগ্রহ জেগে ওঠে। বাংলাদেশে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের ইভেন্টেগুলোকে গোটাকয়েক বছর আগেও বেশিরভাগ কোম্পানি, ব্যাংক গুরুত্বের চোখে দেখেনি। তবে ইদানীং বেশ বড় বাজেটে, অনেক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করে বিশ্বমানের ইভেন্ট চলছে দেশের- বিশেষ করে ঢাকার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠগুলোতে।
একটি ইভেন্ট সাজানো এবং পরিশেষে পরিচালনা করা চাট্টিখানি কথা নয়। অবিরাম পরিশ্রম, বিনিদ্র সময় এবং বেশ কিছু পরিচালকদের দ্বারা পরিচালিত একটি ইভেন্টে অনেকসময় কিছু ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে। প্রায় তিন বছরে আটটি ইভেন্ট প্রতক্ষ্যভাবে পরিচালনা করার পর আমি কিছু ভুলভ্রান্তি ও অবজ্ঞার বিষয়গুলির ইন্টারেস্টিং প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছি। এখন যা বলব, ধরে নেবে এই ভুলগুলো আমি ও আমার সহপাঠীরা বেশ কয়েকবার করেছি এবং সত্য বলতে বেশ সময় লেগেছে আমাদের এ নিয়ে টনক নড়তে।